ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ১০টি হাই ডিমান্ড অনলাইন জব



পৃথিবীর প্রতিটি শিক্ষার্থীই চায় পড়াশোনার পাশাপাশি ইনকাম করতে। আমাদের পৃথিবীতে এখন এই কাজটি অনেক সহজ। কোনো শিক্ষার্থী চাইলেই একটু মেধা খাটিয়ে আয় করতে পারে। আমাদের দেশেও এই সেক্টরে প্রচুর জব অপরচুনিটি তৈরি হচ্ছে। সারা বিশ্বের প্রচুর শিক্ষার্থী এই সেক্টরে কাজ করে অনেক অর্থ আয় করছে। আজ এই আর্টিকেলে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ১০টি হাই ডিমান্ড অনলাইন জবের কথা আলোচনা করবো। চলুন শুরু করা যাক।

জব এক. স্যোসাল মিডিয়া ম্যানেজার:  আপনি নিশ্চই জানেন, পুরো পৃথিবী জুড়ে প্রচুর মানুষ স্যোসাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। যেমন, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা জানবো, বর্তমান পৃথিবীতে কোন স্যোসাল মিডিয়া কতজন মানুষ ব্যবহার করছে। ফেসবুক ব্যবহার করছে ২.২০ বিলিয়ন মানুষ, ইউটিউব ১.৬ বিলিয়ন, ইনস্টাগ্রাম ১ বিলিয়ন, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ১.২ বিলিয়ন, হোয়াটসঅ্যাপ ১.৫ বিলিয়ন মানুষ ব্যবহার করছে। এতো পরিমাণ মানুষ এই স্যোসাল মিডিয়াগুলো ব্যবহার করার কারণে, এগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে লোভনীয় হয়ে উঠেছে তাদের সার্ভিস প্রমোট করার জন্য। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই এই মিডিয়াগুলোতে পেজ এবং অ্যাকাউন্ট আছে। যেখান থেকে তারা তাদের প্রোডাক্টগুলো প্রমোট দিয়ে থাকে বা কাস্টমারদের সার্ভিস দিয়ে থাকে। এই স্যোসাল মিডিয়া পেজগুলো মেনটেইন করার জন্য তারা স্যোসাল মিডিয়া ম্যানেজার নিয়োগ দিয়ে থাকে। স্যোসাল মিডিয়া ম্যানেজারদের কাজ হচ্ছে, কোম্পানীর পণ্যগুলো পেজে আপডেট করা, কাস্টমারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, কাস্টমার সার্ভে করা ইত্যাদি কাজ। আপনি স্যোসাল মিডিয়া ম্যানেজারদের কাজ সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য পেতে অনুসন্ধান করুন গুগল কিংবা ইউটিউবে। এছাড়া যেসব মার্কেটপ্লেসে স্যোসাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে এই সার্ভিসটি সেল করতে পারবেন সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- ফাইভার, ফ্রিল্যান্সার, আপওয়ার্ক ইত্যাদি। আপনারা গুগলে এই নামগুলো দিয়ে সার্স করলেই ওয়েবসাইট লিংক চলে আসবে।

জব দুই. গুগল অ্যাডওয়ার্ড স্পেশালিস্ট: গুগল অ্যাডওয়ার্ড হলো গুগলেই একটি কোম্পানী। এটি গুগলের বিভিন্ন প্লাটফর্মে কোম্পানীকে সুযোগ করে দিয়েছে তাঁদের প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিসগুলোকে প্রমোট করার জন্য। আপনি ইউটিউব ভিডিও’র মধ্যে যে অ্যাড দেখতে পান কিংবা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যে অ্যাড দেখতে এই সবগুলো হচ্ছে গুগল অ্যাডওয়ার্ডের কাজ। প্রায় প্রতিটি কোম্পানী এই সার্ভিসটি মেনটেইন করার জন্য গুগল অ্যাডওয়ার্ড স্পেশালিস্ট নিয়োগ দিয়ে থাকে। এই স্পেশালিস্টদের কাজ হচ্ছে সার্ভিসটি মেনটেইন করার সাথে সাথে তাদের প্রোডাক্টগুলো সঠিক কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, পেইড ক্যাম্পেইন করা। এবং এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে যে ডাটাগুলো পাওয়া যায় সেগুলো অ্যানালাইসিস করে কোম্পানীর সুনাম এবং বিক্রি বাড়ানো। উপরের যে মার্কেটপ্লেসগুলোর নাম দিয়েছি সেগুলোতে প্রচুর কাজ রয়েছে।

জব তিন. ডাটা এন্ট্রি জব: ডাটা এন্ট্রি জব শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রিয় একটি জব। এই কাজটি সহজ হওয়াতে প্রচুর শিক্ষার্থী এটিকে বেছে নেয়। পৃথিবীর সকল মার্কেটপ্লেসে ডানা এন্ট্রির লক্ষ লক্ষ কাজ পাওয়া যায়। আপনি যদি এই কাজে এক্সপার্ট হোন তাহলে আজই শুরু করতে পারবেন কাজটি। ডাটা এন্ট্রি কাজ আবার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

এক. টেক্সট ক্রিয়েশন ডানা এন্ট্রি: ক্লায়েন্ট আপনাকে একটা টপিক দেবে, সেই টপিকের উপর ভালোভাবে পড়াশোনা করে কিংবা গবেষণা করে আপনি একটা ডেসক্রিপশন লিখে দিবেন।

দুই. সার্ভে ডাটা এন্ট্রি: কোম্পানীগুলো বিভিন্ন ধরনের সার্ভে করে থাকে তাদের প্রোডাক্টের সার্ভিস সম্পর্কে কাস্টমারদের পিডবেক পাওয়ার জন্য।

তিন. অ্যাপ টেস্টিং জব: আপনারা বিভিন্ন অ্যাপ ইনস্টোল করার জন্য যে প্লেস্টোর ব্রাউজ করেন সেটাতে প্রতিদিনই হাজার হাজার অ্যাপ যুক্ত হচ্ছে। বিভিন্ন সফটওয়্যার কোম্পানী এই অ্যাপগুলো লঞ্চ করে থাকে এবং তারা রিয়েল ইউজারদের পিডবেক পাওয়ার জন্য বিভিন্ন অ্যাপ টেস্টিং জব পাবলিশ করে। যে অ্যাপ টেস্টিং করার জন্য দেবে সেটি আপনার মোবাইলে ইনস্টোল করতে হবে এবং সেটির বিভিন্ন সমস্যা দেখতে হবে। টেস্টিং করার পর সে ফলাফলটি পাবেন সেটি আপনার ক্লায়েন্টকে বুঝিয়ে দেবেন।

চার. টাইপিং ডাটা এন্ট্রি: আপনি যদি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর কাজ জানেন তাহলে আপনি এই কাজটি সহজেই করতে পারবেন। টাইপিং কাজও বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন, হার্ডকপি থেকে ওয়ার্ডে টাইপ করা, অডিও-ভিডিও থেকে ওয়ার্ডে টাইপ করা ইত্যাদি।

ডাটা এন্ট্রি জবে আপনাকে একটি পরামর্শ দিই, সেটা হলো ক্যাপসা ডাটা এন্ট্রি কাজগুলো করবেন না। এগুলো করলে আপনি আপনার ইন্টারনেটের বিলও তুলতে পারবেন না।

জব চার. পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ডিজাইনার: আমরা অনেকেই বড় বড় সেমিনারে অংশগ্রহণ করে থাকি। আবার ইউটিউবেও বিভিন্ন সেমিনারের ভিডিও দেখে থাকি, দেখবেন একটি বড় স্ক্রিনে অনেক কিছু দেখানো হয়। আর ওই বড় স্ক্রিনে যে বিষয়গুলো দেখানো হয় সেটাকে বলা হয় পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ডিজাইন। শুধু মাত্র সেমিনার কিংবা কনফারেন্স নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মিটিং কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ব্যবহার করা হয়। তাই প্রতিষ্ঠানগুলো পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন স্পেশালিস্টদের নিয়ে যায় তাদের প্রেজেন্টেশন সুন্দরভাবে ডিজাইন করার জন্য।

জব পাঁচ. ভার্সুয়াল অ্যাসিসটেন্ট: ভার্সুয়াল অ্যাসিসটেন্টের কাজ হচ্ছে তাঁর ক্লায়েন্ট বা বসের ইমেইলগুলো মেনটেইন করা, মিটিং ঠিক করা, ব্যবসায়ীক পার্টনারদের সাথে যোগাযোগ রাখা, ব্যবসায়ীক বিভিন্ন বিষয়ে রিচার্স করা ইত্যাদি কাজ। সারা পৃথিবীতে অনলাইনে লক্ষ লক্ষ কোম্পানী আছে, সেগুলোর মালিকরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে। সেজন্য ভার্সুয়াল অ্যাসিসটেন্ট নিয়োগ দিয়ে থাকে। বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসগুলোতেও প্রচুর ভার্সুয়াল অ্যাসিসটেন্টের জব রয়েছে।

জব ছয়. ট্রান্সক্রিপশনিস্ট: শব্দটির অর্থ হচ্ছে অনুবাদক। আপনি যদি খুব ভালো ইংরেজি জানেন তাহলে আপনরা জন্যই এই পেশা। অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে প্রচুর পরিমাণের কাজ রয়েছে। আর এর জন্য ক্লায়েন্টরা প্রচুর টাকা পেমেন্ট করে থাকে। অনুবাদকরা আবার বিভিন্ন ব্লগে লিখে প্রচুর টাকা আয় করে থাকে।

জব সাত. অনলাইন কনসালটেন্ট: কনসালটেন্ট অর্থ হচ্ছে পরামর্শক। পরামর্শকরা বিভিন্ন মানুষ বা প্রতিষ্ঠানকে পণ্য বা ব্যবসা সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকে। আপনি যদি কোনো বিষয়ে খুব বেশি বুঝেন বা এক্সপার্ট হয়ে থাকেন তাহলে আপনি অনলাইনে এই কাজটি করতে পারবেন। বিদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনলাইন কনসালটেন্টদের কাছ থেকে ব্যবসা সম্পর্কে পরামর্শ নিয়ে থাকে। আপনি যদি শুধু মাত্র ফাইভারে গিয়ে অনলাইন কনসালটেন্ট শব্দটি অনুসন্ধান করেন তাহলে বুঝতে পারবেন পৃথিবীর কত শিক্ষার্থী ছাত্রবস্থায় এই কাজটি করে থাকে।

জব আট. এসইও স্পেশালিস্ট: বর্তমানে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে এসইও স্পেশালিস্টদের হাই ডিমান্ড। প্রায় প্রত্যেকটা কোম্পানীর ওয়েবসাইট রয়েছে। আবার নতুন কোম্পানীগুলো তাদের ওয়েবসাইট তৈরি করছে। তাঁদের ওয়েবসাইটকে গুগল রেঙ্কিং এ নিয়ে আসার জন্য এসইও করতে হয়। কোম্পানীগুলো সেজন্য এসইও এক্সপার্টদের হায়ার করে থাকে। এসইও এক্সপার্টদের মূলত কাজ হয়ে থাকে ওয়েবসাইটের অডিট করা, সার্চ ইঞ্জিন অনুসন্ধানে সেটার কনটেন্টগুলো আছে কিনা, কোনো সমস্যা থাকলে বের করা, গুগল কিওয়ার্ড রিচার্স করা ইত্যাদি কাজ। কোম্পানীর প্রোডাক্ট রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করা ইত্যাদি।

জব নয়. ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপার: ওয়ার্ডপ্রেস কি? ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে ওয়েবসাইট তৈরি করার একটি সফটওয়্যার। পৃথিবীতে যত ওয়েবসাইট আছে তার এক তৃতীয়াংশ ওয়েবসাইটই ওয়ার্ডপ্রেস সফটওয়্যার দিয়েই তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন সারা পৃথিবীতে হাজার হাজার ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করার কাজটি অনেক ডিমান্ডের। অনলাইন মার্কেটপ্লেস ছাড়াও আমাদের বাংলাদেশেও প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস পেভেলপার হিসেবে এক্সপার্ট হোন তাহলে অনলাইন মার্কেটপ্লেস ছাড়াও প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করতে পারবেন। তাছাড়া ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট ডিজাইন করাও খুব সহজ। অল্প কয়েকদিন সঠিকভাবে চেষ্টা করলে আপনি খুব সহজেই ওয়ার্ডপ্রেস ডিজাইন শিখতে পারেন।

জব দশ. ভয়েস ওভার সার্ভিস: আপনার ক্লায়েন্ট আপনাকে একটা স্ক্রিপ্ট দেবে, আপনি সেটা দেখে দেখে অডিও রেকর্ড বা ভিডিওতে ভয়েস দিবেন। আপনার গলা যদি সুন্দর হয় কিংবা আপনার যদি উচ্চারণ সঠিক থাকে তাহলে আপনি এই কাজটি করে সুন্দর একটা ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন। ইউটিউব ভিডিও রে‌্যভুলেশন নিয়ে আসার পরে ভয়েস ওভার এক্টরদের ডিমান্ড আরও বেড়ে গেছে। শুধুমাত্র অনলাইনে নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন ইউটিউবারদেরও ভয়েস ওভার এক্টরের প্রয়োজন হয়। আপনি ইউটিউবে অনেক ভিডিও দেখবেন, তাঁরা ক্যামেরার সামনে কথা বলে না, কিন্তু ভিডিওর পেছনে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দিয়ে যাচ্ছে।

প্রিয় পাঠক, আমাদের আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে, তাহলে অবশ্যই আপনার টাইমলাইনে শেয়ার করবেন এবং আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইভ করবেন। আমাদের আশা রয়েছে, চ্যানেলটিতে আমরা শিক্ষামূলক বিভিন্ন ভিডিও আপডেট করবো।

নোট: আপনার প্রতিষ্ঠান বা নিজের জন্য যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করতে ইচ্ছুক? তাহলে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে। আমরা স্বল্প খরচে মাল্টিক্লাসের ওয়েবসাইট তৈরি করে থাকি। যোগাযোগ: ০১৬৪৮০১৬১৬৬


No comments

Theme images by enot-poloskun. Powered by Blogger.