নজরুল কাব্যে ঈদ ভাবনা : আনন্দ, বিরহ ও সাম্যবাদ




এ বি এম ফয়েজ উল্যাহ

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি জাতিসত্তার যেমন সর্বশ্রেষ্ঠ রূপকার, তেমনি হিন্দু-মুসলিম সাংস্কৃতিক সত্তারও শ্রেষ্ঠ রূপকার। বাংলাসাহিত্যে আধুনিকতম কবি, শ্রেণীসংগ্রামের কবি, মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়ীক কবি হিসেবে তিনি যেভাবে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন, তেমনি সংগীত রচয়িতা ও সংগীতের বিষয় বৈচিত্র এবং সুর-বৈচিত্রের অনুপম স্রষ্টা হিসেবে মিয়া তানসেনের পর তাঁর সমকক্ষ আর কেউ নেই।

এ প্রসঙ্গে কবি ও গবেষক আজহারউদ্দীন বলেন “বাংলায় মুসলমানি তমুদ্দুন ও হিন্দু সংস্কৃতির সহযোগে যে বাংলা সংস্কৃতির জন্ম হয়েছে, নজরুল সেই জাতীয় সংস্কৃতির কবি”। (বাংলা সাহিত্যে নজরুল- আজহারউদ্দীন)

আর বাংলা-সাহিত্য ও সংগীত-জগতে ইসলামী মূল্যবোধ, ইসলামী ঐতিহ্য, ইসলামি সংস্কৃতি, ইসলামী আদর্শ ও ধ্যান ধারণার প্রণয়ন, প্রচার প্রসারের তিনিই পথিকৃত।

ইসলাম যে শুধু শান্তি ও প্রেমের নয়; সাহস, শক্তি ও বীর্যের, শুধু আধ্যাত্মিকতার নয়; মানবিকতার, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এবং সমাজ জীবনে ন্যায়ের নিয়ামক ভূমিকার তথা সমাজ বিপ্লবের- সেই বাস্তবতার প্রতিফলন। তারই মহিমাময় প্রতিচ্ছবি তাঁর ইসলামী গান”। (নজরুল ইসলাম: ইসলামী গান- আবদুল মুকিত চৌধুরী)

ভারতীয় মুসলিম সমাজে সংগীত চর্চায় যখন হারামের ফতোয়া চলছে, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টানরা নানান পুজা পার্বণে অনুষ্ঠানে নিজেদের ধর্মীয় সংগীত গেয়ে আনন্দ উৎসব করছে, তখন মুসলমানদের জাতীয় উৎসবে আনন্দগীতি গাওয়ার মতো, নিজেদের গৌরব তুলে ধরার মতো ইসলামী ধারার কোন সংগীত ছিলো না। কাজী নজরুল ইসলামই সর্বপ্রথম ‘হামদ্', (আল্লাহ প্রশস্তি), ‘নাত-ই-রাসুল’, (মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ) প্রশস্তি), ইসলামী জাগরণী গান, মরমী গান রচনা করে বাংলাসাহিত্য ও সংগীতে নতুন ধারার প্রবর্তন করেন। নজরুলের ইসলামী গান কোরআন ও হাদিস ভিত্তিক। তাঁর ‘হামদ’, ‘নাত’ আল্লার প্রশস্তি ও রসুলের মহিমা বর্ণনা, কোন ভক্তিমূলক গান নয়। তাঁর এসব গানের আবেদনের মধ্যে আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ভাব প্রকাশিত হয়েছে। আল্লাহ’র সার্বভৌম শক্তি- সত্তা, রাসুলের চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানব-প্রীতি গানগুলোর যেমন বৈশিষ্ট্য, তেমনি নির্যাতিত মানুষের মুক্তির দিশারী। ( নজরুল ইসলাম : ইসলামী গান-আবদুল মুকিত চৌধুরী)

আজ তাঁর রমজান বিষয়ক কাব্য- সংগীত নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা হলো।
 কোরআনুল করিম নাজিল হয়েছে এই পবিত্র রমজানের মাসে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “শাহরু রামাদানাল্লাজি উনযিলা ফি হিল কুরআন”  অর্থাৎ, রমজান সেই মাস, যেই মাসে কোরআন নাযিল করেছি।”

আর কাজী নজরুল ইসলামও আল্লাহর এই নিয়ামতের কথা তাঁর কাব্যে যেভাবে উল্লেখ করেছেন-
“ওগো রমজান!
আনিয়াছিলে দুনিয়াতে তুমি
পবিত্র কোরআন....।”

মুসলমানদের জন্য রোজা ফরজ। আল্লাহ’র সন্তুষ্টি লাভের জন্য ধনী-গরীব সবাই একমাস কঠোর সিয়াম সাধনায় রত থাকেন। মাসের শেষে পশ্চিমাকাশে যখন নতুন  ‘আল-হেলাল’ নজরে আসে, তখন বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে যে আনন্দ-উন্মাদনা-উচ্ছ্বাস জেগে উঠে, তাঁদের মনের সেই ভাব প্রকাশ করে নজরুল তাঁর প্রথম ইসলামি সংগীত রচনা করলেন-

“ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ,
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাকিদ।
তোর সোনাদানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ,
দে জাকাত, মূর্দ্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ।
আজ ভুলে গিয়ে দোস্ত-দুশমন হাত মিলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরীদ।
যারা জীবনভরে রাখছে রোজা নিত্য-উপবাসী
সেই গরীব এতিম মিসকিনে দে যা কিছু মফিদ...”

ঈদের চাঁদ দেখার সাথে সাথে টিভি চ্যানেল সমূহ ও বেতারে একসাথে যন্ত্র সহযোগে এই সংগীত যখন বেজে উঠে, তখন ঈদের আনন্দ, জোশ হাজারগুন বেড়ে যায়। আবাল-বৃদ্ধ বনিতা সবার মনে এক অনন্য পুলক শিহরণ জাগে।

এ প্রসঙ্গে নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, “অন্য এলাকায় মুসলিমরা গান করলেও বাঙালী মুসলিমের কাছে সঙ্গীত ছিল অপাঙতেও। কিন্তু এই গানটিতে ধর্মীয় ভাবধারা আর ঈদের যে খুশি সেটা খুব চমৎকারভাবে ধরা পরেছে”। 

 সেই থেকে এই গানের শুধু উত্থানই হয়েছে। এমনকি অমুসলিম শিল্পী সতিনাথ মুখার্জি সহ আরো অনেকের কণ্ঠে শোনা গেছে গানটি।

আব্বাসউদ্দিনের ছেলে ও মেয়ে মুস্তাফা জামান আব্বাসি ও ফেরদৌসি রহমানও গানটি জনপ্রিয় করেছেন।

কিন্তু গরীবের জন্য এই ঈদ তো শুধুমাত্র ঈদ নয়, এটি যে ধনীদের কাছ থেকে, ধনীদের সঞ্চিত অর্থে আল্লাহর নির্ধারিত তাদের যে হিস্যা/ প্রাপ্য অংশ রয়েছে, তারও পাওয়ার, আদায়ের সময়। তাই নজরুল ইসলাম কোরানের বাণীর “আকিমুস সালাতা ওয়াতুয যাকাত” ( নামাজ কায়েম কর এবং যাকাত দাও) অনুসরণে লিখলেন-

“দে জাকাত, দে জাকাত, তোরা দে রে জাকাত,
তোর দিল খুলবে পরে- ওরে আগে খুলুক হাত।
দেখ্ পাক কোরান, শুন্ নবীজির ফরমান,
ভোগের তরে আসেনি দুনিয়ায় মুসলমান।
তোর একার তরে দেননি খোদা দৌলতের খেলাত।
তোর দরদালানে কাঁদে ভুখা হাজারো মুসলিম,
আছে দৌলতে তোর তাদেরও ভাগ- বলেছেন রহিম।
বলেছেন রহমানুর রহিম, বলেছেন রসুলে করিম,
সঞ্চয় তোর সফল হবে, পাবিরে নাজাত।
দে জাকাত, দে জাকাত...”

কাজী নজরুল ইসলাম মানবতার কবি। সাম্যের কবি। শ্রেণীসংগ্রামের কবি। গরীব কৃষক মুটেমজুর আর দৌলতবান মানুষের ঈদ- আনন্দ কেমন, তা তিনি জানেন। তাইতো ‘কৃষকের ঈদ’ কবিতায় ক্ষুব্ধ কবি লিখেন-

“বেলাল! বেলাল! হেলাল উঠেছে পশ্চিম আসমানে,
লুকাইয়া আছ লজ্জায় কোন মরুর গোরস্তানে!
হের ঈদগাহে চলিছে কৃষক যেন প্রেত-কঙ্কাল,
কশাইখানায় যাইতে দেখেছ শীর্ণ গরুর পাল?
রোজা এফতার করেছে কৃষক অশ্রু- সলিলে হায়,
বেলাল! তোমার কণ্ঠে বুঝি গো আজান থামিয়া যায়!
থালা ঘটিবাটি বাঁধা দিয়ে হের চলিছে ঈদগাহে,
তীর-খাওয়া বুক, ঋণে-বাঁধা-শির, লুটাতে খোদার রাহে।
জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুদায় আসেনা নিঁদ,
মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ...?

তিনি এই শ্রেণীগত ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের অবসান চেয়েছেন। সে বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা কায়েম হলেই তবে-

“রোজা ইফতার করিব সেদিন
সেইদিন ঈদ হবে।”

শ্রেণী বৈষম্য, নির্যাতীত, নিপীড়িত, মজলুমের আহাজারি, অসাম্য, দারীদ্রতার নির্মম কশাঘাত থেকেই নজরুলের বিদ্রোহী-সত্বার জন্ম। জন্ম তাঁর প্রেম ও দ্রোহের।

তাঁর সাম্যবাদ মূলতঃ ইসলামী সাম্যবাদ। ভারতের কম্যুনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জনাব মুজাফফর আহমদের সাহচর্যে থেকেও তিনি কম্যুনিস্ট হননি এবং ইসলামকে কম্যুনিজমের সাথে গুলিয়ে ফেলেননি। তাঁর সাম্যবাদী কবিতাগুচ্ছে এর প্রতিফলন লক্ষনীয়।

নজরুল ইসলামের সাম্যবাদ, আল্লাহ তায়লার নির্দেশিত আল-কোরআনের সাম্যবাদ। এখানে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার মতো ‘নাই অধিকার সঞ্চয়ের’। ধনীর ধনে গরীবেরও অংশ রয়েছে। জাকাতের মাধ্যমে তা গরীবের হাতে তুলে দিতে হবে।এটা কোন করুণা নয়, প্রাপ্য অধিকার। তাই নজরুল ইসলাম শুনালেন-

“মোরা শুধু জানি, যার ঘরে ধন-রত্ন জমানো আছে,
ঈদ আসিয়াছে, জাকাত আদায় করিব তাদের কাছে।
এসেছি ডাকাত জাকাত লইতে পেয়েছি তাঁর হুকুম,
কেন মোরা ক্ষুধা- তৃষ্ণায় মরিব, সহিব এই জুলুম?” (ঈদের চাঁদ)

“তারপর ইসলামের বিধান উল্লেখ করে লিখলেন,
"ঈদ-অল-ফিতর আনিয়াছে তাই নববিধান,
ওগো সঞ্চয়ী, উদ্বৃত্ত যা করিবে দান
ক্ষুধার অন্ন হোক তোমার।
ভোগের পেয়ালা উপচায়ে পড়ে তব হাতে,
তৃষ্ণাতুরের হক আছে ঐ পিয়ালাতে,
দিয়া ভোগ কর বীর, দেদার"।

তবে ধনী গরীব সব মুসলমান যে যেভাবে পারুক, তারা আল্লাহর হুকুম আহকাম পালনে তৎপর থাকেন। ঈদের চাঁদ দেখার সাথে সাথে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেন। কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যে তার প্রতিফলন রয়েছে-

“এলো ঈদুল-ফেতর এলো ঈদ্ ঈদ্ ঈদ্
সারা বছর যেই ঈদের আশায় ছিল নাকো নিঁদ।
রোজা রাখার ফল ফলেছে
দেখরে ঈদের চাঁদ,
সেহেরি খেয়ে কাটুক রোজা
আজ সেহেরা বাঁধ,
ওরে বাঁধ আমামা বাঁধ।
প্রেমাশ্রুতে অজু করে চল ঈদগাহ্ মসজিদ।”

কাজী নজরুলের প্রতিটি কবিতা, গানের কথা গণমানুষের নিজের কথা, তাঁদের নিজেদের অভিব্যক্তি। তাদের মনের উচ্ছ্বসিত ভাব প্রকাশ। ঈদের দিনে কবি তাঁদের মুখে ভাষা দিলেন-

“পথে পথে আজ হাঁকিব বন্ধু
ঈদ মোবারক! আসসালাম!
ঠোঁটে ঠোঁটে আজ বিলাব শিরনী ফুল-কালাম,
বিলিয়ে দেয়ার আজিকে ঈদ।”
মানুষে মানুষে নাই ভেদাভেদ, নাই ইসলামে আতরাফ আশরাফ। নাই কুলীন অকুলীন উচ্চ নিচ। ঈদের জামাতই তার প্রমাণ-
“দোস্ত-দুশমন এক জামাত,
আজি আরাফাত ময়দান পাতা গাঁয়ে গাঁ য়ে,
কোলাকোলি করে বাদশাহ ফকিরে ভায়ে ভায়ে,
কাবা ধরে নাচে লাত-মানাত।”

কাজী নজরুল ইসলামের এক অনন্য সৃষ্টি সোনাদানা, বহুমূল্য হীরা মুক্তা, জেওয়ারাত ছাড়াও আল্লাহর নেয়ামত প্রকৃতিজাত সম্পদ দিয়ে কবিতায় নিজের প্রিয়াকে সাজানোর বিস্মিত প্রতিভা। ঈদ উপলক্ষেও তিনি এমনি একটি কাব্য- গীতি রচনা করেছেন।

আল্লার রাহে নিজেকে উৎসর্গকৃত একজন গরীব মুসলমান নারী প্রার্থিব জেওরাত ছাড়া কি ভাবে আল্লাহ রাসুল মা ফাতেমা, হাসান হোসেন এবং চার খলিফাকে জেওরাত হিসেবে ব্যবহার করে ঈদের সাজে সাজিয়েছন, তা নজরুল ইসলাম তাঁর ‘ঈদ’ নাটিকায় নায়িকা গুলশানের কণ্ঠে জানিয়েছেন-

“নাই হলো মা বসন ভূষণ এই ঈদে আমার,
আল্লাহ আমার মাথার মুকুট, রসুল গলার হার।
নামাজ রোজা ওড়না শাড়ি,
ওতেই আমায় মানায় ভারী,
কলমা আমার কপালে টিপ,
নাই তুলনা তার
(আমার) হাতে সোনার চুড়ি যে মা
হাসান হোসেন মা ফাতেমা,
(মোর) অঙ্গুলিতে অঙ্কুরী মা
নবীর চার ইয়ার।”

কাজী নজরুল ইসলাম ঈদকে শত্রু মিত্র, আতরাফ আশরাফ ও গোত্র বর্ণ নির্বিশেষে মহামিলনের উৎসব হিসেবে বর্ণনা করে সবাইকে সালাম, প্রণতি জানিয়েছেন-

“ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক-
দোস্ত দুশমন পর ও আপন
সবার মহলে আজি হউক রওনক।
যে আছ দূরে যে আছ কাছে
সবারে আজ মোর সালাম পৌঁছে,
সবারে আজ মোর পরাণ যাচে
সবারে জানাই এ দিল্ আশক....
মিলিয়া ফকির শাহানশাহে
এ ঈদগাহে গাহুক ইয়াহক”

এটি নজরুলের একার অভিব্যক্তি বা আহ্বান নয়। এটি তাঁর পক্ষ থেকে মুসলমানদের প্রতি একটি ঈমানী দাওয়াত।ইসলামের ভ্রতৃত্বভাবের শিক্ষা।

কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। আমাদের জাতীয়-সাহিত্যের স্রষ্টা। আমাদের দৈনন্দিন ও জাতীয় জীবনে চলার পথে তাঁর সার্বজনীন সত্তা, চেতনা-হৃদপিন্ডে রক্ত প্রবাহের মতো। বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাথে সাথে তাঁর কাব্য সাধনার মধ্য দিয়ে ইসলামী রেনেসাঁ তথা বাঙালি মুসলমানদের নব-জাগরণ সাধিত হয়েছে।

তিনিই মুসলিম জাগরণের কবি। বাংলাসাহিত্যে তাঁর আবির্ভাবের পূর্বে মুসলমান কবি সাহিত্যিক ও তাঁদের রচিত সাহিত্যের কোন মূল্যই ছিলনা। মুসলমান কবি ও তাঁদের রচিত সাহিত্য বটতলার কবি, বটতলার সাহিত্য নামে অভিধিত হতো।

১৮০০ খৃস্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে ইংরেজ পাদ্রিদের উদ্যোগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও বিশিষ্ট হিন্দু ব্রাহ্মণ্যবাদী পন্ডিতদের সহায়তায় সাহিত্য থেকে মুসলমানদের দৈনন্দিন ব্যবহারের প্রচলিত আরবি ফার্সি শব্দ একেবারে চেটে ফেলে তাতে দুর্বোধ্য সংস্কৃতি শব্দের প্রচলনে মুসলমান লেখক, কবি সাহিত্যিকেরা একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

সাহিত্যের এমনি এক অরাজক সময়ে পরম করুণাময়ের আশির্বাদ হিসেবে ধুমকেতুর রথে চড়ে আবির্ভূত হলেন মানবতার কবি, সাম্যবাদের কবি, অসাম্প্রদায়িক কবি, মুসলিম রেঁনেশার কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

সাহিত্য জগতে তিনি এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। তাঁর সময়ের এবং আজকের সমস্ত মুসলমান কবি সাহিত্যিক তাঁর কাছে ঋণী। মুসলিম জনজাগরণের কবি তিনিই। তাঁকে কেন্দ্র করেই আজ মুসলমান কবি সাহিত্যিক ও তাঁদের সাহিত্য বাংলাসাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষ স্থান লাভ করার সুযোগ পেয়েছে।

নজরুল ইসলামের সাহিত্য চিরকালের। সকল মানুষের। তাঁর সাহিত্য অবিনশ্বর। আজকে ঈদের এই আনন্দক্ষণেও মুসলিম বিশ্বে অনৈক্য, বিভেদ, হানাহানি আর পরাশক্তির দুর্বিসহ নির্যাতন, জুলুম বিরাজমান। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা পাঠে ঋদ্ধ হই-

“উর্ধে আদেশ হানিছে বাজ,
শহীদী-ঈদের সেনারা সাজ,
দিকে দিকে চলে কুচকাওয়াজ -
খোল্ রে নিঁদমহল।
এই ঈদে আমাদের একান্ত কামনা-
তওফিক দাও খোদা ইসলামে
মুসলিম জাঁহা পুনঃ হোক আবাদ”

 লেখক: এবিএম ফয়েজ উল্যাহ
 কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক। 

No comments

Theme images by enot-poloskun. Powered by Blogger.